দ্য গ্রেট স্ফিংক্স: বয়স ও উদ্দেশ্য (The Great Sphinx – Age and Purpose) untold history


 

ভূমিকা

মিশরের গিজা মালভূমিতে অবস্থিত দ্য গ্রেট স্ফিংক্স (The Great Sphinx of Giza) মানব ইতিহাসের অন্যতম রহস্যময় প্রাচীন স্থাপনা। সিংহের দেহ মানুষের মাথা নিয়ে গঠিত এই বিশাল ভাস্কর্যটি হাজার হাজার বছর ধরে গবেষক, প্রত্নতত্ত্ববিদ এবং ইতিহাসবিদদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। এর প্রকৃত বয়স (age) এবং উদ্দেশ্য (purpose) নিয়ে আজও বিতর্ক নানা তত্ত্ব বিদ্যমান।


দ্য গ্রেট স্ফিংক্সের বয়স (Age of the Great Sphinx)

প্রচলিত মতামত

বেশিরভাগ মূলধারার ইতিহাসবিদ মিশরবিদদের মতে, গ্রেট স্ফিংক্স নির্মিত হয়েছিল আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ অব্দে, অর্থাৎ প্রায় ,৫০০ বছর আগে এই সময়কালটি মিশরের চতুর্থ রাজবংশ (Fourth Dynasty)-এর শাসনামলের সঙ্গে সম্পর্কিত।

অনেক গবেষকের ধারণা, স্ফিংক্সটির মুখাবয়ব ফেরাউন খাফরে (Pharaoh Khafre)-এর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। খাফরের পিরামিড স্ফিংক্সের ঠিক পাশেই অবস্থিত, যা এই ধারণাকে আরও জোরালো করে।

বিকল্প বিতর্কিত তত্ত্ব

কিছু গবেষক দাবি করেন যে স্ফিংক্সটি প্রচলিত ধারণার চেয়েও অনেক প্রাচীন, সম্ভবত ,০০০১০,০০০ বছর পুরোনো।

  • স্ফিংক্সের দেহে থাকা জলক্ষয়ের (water erosion) চিহ্ন দেখে কেউ কেউ মনে করেন, এটি এমন এক সময়ে নির্মিত হয়েছিল যখন মিশরে প্রচুর বৃষ্টিপাত হতো।
  • এই তত্ত্ব অনুযায়ী, স্ফিংক্সটি সম্ভবত মিশরের প্রাক-রাজবংশীয় (Pre-dynastic) সভ্যতার সৃষ্টি।

তবে এই ধারণাগুলো এখনো মূলধারার প্রত্নতত্ত্বে সম্পূর্ণভাবে গৃহীত নয়।


দ্য গ্রেট স্ফিংক্সের উদ্দেশ্য (Purpose of the Great Sphinx)

. রাজকীয় রক্ষক (Guardian Symbol)

সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মত অনুযায়ী, স্ফিংক্সটি ছিল গিজার পিরামিড কমপ্লেক্সের রক্ষক সিংহ ছিল শক্তি কর্তৃত্বের প্রতীক, আর মানুষের মুখ রাজকীয় বুদ্ধিমত্তা শাসনক্ষমতাকে বোঝায়।

. সূর্য উপাসনার প্রতীক

গ্রেট স্ফিংক্স পূর্বদিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে, ঠিক যেখানে সূর্য উদয় হয়। অনেক গবেষক মনে করেন এটি সূর্য দেবতা রা (Ra) বা হোরাস (Horus)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।

পরবর্তীকালে একেহোরেমাখেত (Horemakhet)নামে ডাকা হতো, যার অর্থদিগন্তের হোরাস

. ফেরাউনের দেবত্বের প্রতীক

স্ফিংক্সের মানুষের মুখ সিংহের দেহ একত্রে ফেরাউনের দেবতুল্য ক্ষমতা প্রকাশ করে। এটি বোঝায় যে ফেরাউন ছিলেন মানুষ দেবতার মধ্যবর্তী এক সত্তা।

. জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক উদ্দেশ্য

কিছু গবেষকের মতে, স্ফিংক্সটি নির্দিষ্ট নক্ষত্র বা জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্মিত হয়েছিল। বিশেষ করে লিও (Leo) নক্ষত্রমণ্ডল-এর সঙ্গে এর সিংহাকৃতি সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়।


রহস্য অজানা প্রশ্ন

  • স্ফিংক্সের নাক কীভাবে ভেঙে গেল?
  • এর নিচে কি কোনো গোপন কক্ষ বা “Hall of Records” আছে?
  • এটি কি একাধিক সময়ে সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে?

এই প্রশ্নগুলোর অনেকগুলোর উত্তর এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি।


উপসংহার

দ্য গ্রেট স্ফিংক্স কেবল একটি ভাস্কর্য নয়, এটি প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার জ্ঞান, বিশ্বাস ক্ষমতার এক জীবন্ত প্রতীক। এর বয়স উদ্দেশ্য নিয়ে বিতর্ক থাকলেও একটি বিষয় নিশ্চিতস্ফিংক্স আজও মানব ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রহস্য হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে এবং ভবিষ্যতেও গবেষণা কৌতূহলের উৎস হয়ে থাকবে।

 

Post a Comment

0 Comments